ইন্টারনেটের মালিক কে ???

internet

ইন্টারনেট হলো ঠিক এমন একটা ব্যবস্থা যার যাহায্যে ভিন্ন ভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন কম্পিউটার পরস্পরের সাথে একটা নিয়ম রক্ষা করে যোগাযোগ করতে পারে। অবশ্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না মানলে এটা কখনই সম্ভব হবে না

ইন্টারনেট:

ইন্টারনেট হলো বিভিন্ন নেটওয়ার্কের একটা সমন্বিত সংযোগ। আগেই বলেছি এই সংযোগগুলো পরিচালিত হয় কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম নীতির মাধ্যমে যাকে বলা হয় প্রটোকল। এই নিয়মগুলোই সমস্ত নেটওয়ার্কের মধ্যে সহজভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে। তবে সবকিছুই নির্ভর করে বিশাল রাউটার পরিকাঠামো, নেটয়ার্ক এক্সেস পয়েন্ট (ন্যাপ) এবং কম্পিউটার সিস্টেমের উপর

তারপর নেটওয়ার্ক সিগনাল প্রেরণ করার জন্য প্রয়োজন কৃত্রিম উপগ্রহ (স্যাটেলাইট), হাজার হাজার মাইল বিস্তৃত কেবল এবং সহস্র ওয়্যারলেস রাউটার এতো কিছুর সমন্বয়ে যে বৈশ্বিক সিস্টেম গঠিত হয়েছে তা কোন কিছুর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারেনি, অতিক্রম করে চলেছে দেশের পর দেশ, সাগর মহাসাগর এবং পাহাড় পর্বত। কোন দেশের সীমানা আটকে রাখতে পারেনি এই চলমান প্রযুক্তির আশির্বাদকে। দিনের পর দিনে এটি সংযুক্ত করছে শত নেটওয়ার্ককে। যেন মোবাইলে সাপের গেমটার মতো, খাবার খাচ্ছে আর বড় হচ্ছে। বিশ্বের প্রায় প্রত্যেকটি দেশে এখন ইন্টারনেট সংযোগ আছে।বর্তমান বিশ্বের সবাই এখন একটি নিদিষ্ট নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত হয়ে গেছে

এখন প্রশ্ন হলো এই বিশাল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রন করছে কে?

computer-internet-100128-02

অনেকগুলো ছোট ছোট সিস্টেম মিলে যে দৈত্যাকার ইন্টারনেট তৈরী হলো, তাকে আমরা একটা বিশেষ সত্ত্বা বলতেই পারি। এখন এই একটা সত্ত্বার সত্ত্ব কার হবে? এটা কি একজন নিয়ন্ত্রন করে নাকি অনেকেই বা বিশেষ কোন গোষ্ঠী?

 

আসলে সমগ্র ইন্টারনেটের মালিক-কেউ না আবার অনেক মানুষ!

অবাক হলেন? যদি আপনি মনে করেন ইন্টারনেট হলো একটি সম্মিলিত কিন্তু একক সত্ত্বা এবং কারও এটার উপর মালিকানা নেই। তাহলে নিশ্চয় এর জন্য কোন নির্দিষ্ট সংগঠন থাকবে যা এর গঠন এবং কাজ নিয়ন্ত্রন করে কিন্তু এই সমগ্র ব্যবস্থার উপর তাদের কোন মালিকানা নেই। কোন দেশের সরকার এর উপর মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনা।

অথবা ভাবতে পারেন হাজার হাজার মানুষ এটার মালিক। ইন্টারনেটকে যদি অনেকগুলো পার্টের সমষ্টি হিসাবে কল্পনা করেন তাহলে অনেক মানুষ একেকটি পার্টের মালিক যারা এর উন্নয়নে কাজ করছে।

ইন্টারনেটের সত্যিকারের মালিক:

যে ফিজিক্যাল নেটওয়ার্ক বিভিন্ন কম্পিউটারের মধ্যে ইন্টারনেট ট্রাফিক পরিবহন করে তাকে বলা হয় ইন্টারনেটের মেরুদণ্ড। আগেকার দিনের ইন্টারনেট সিস্টেমে আরপানেট ইন্টারনেটের মেরুদন্ড হিসাবে কাজ করেছে। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানি যারা রাউটার এবং ক্যাবলের যোগানের মাধ্যমে ইন্টারনেট মেরুদন্ড হিসাবে কাজ করছে। এই কোম্পানি গুলোকেই বলা হয় ইন্টারনেট সেবাদাতা বা আইএসপি। এখন কোন দেশ বা যদি কেউ নিজের প্রয়োজনে ইন্টারনেট এক্সেস পেতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই এই আইএসপির সাথে যোগাযোগ করতে হবে। বিশ্বের সে সকল আইএসপি বা ইন্টারনেট সেবা দাতা প্রতিষ্ঠান বিখ্যাত তারা হল- ইউইউনেট, লেভেল থ্রি, ভেরিযেনি, এটিঅ্যান্ডটি, কুয়েস্ট, স্প্রিন্ট, আইবিএম ইত্যাদি

বড় বড় আইএসপি গুলো থেকে আবার ছোট ছোট আইএসপি সৃষ্টি হয়েছে। যারা আমাদেরকে সেবা দিয়ে থাকে। যেমন: আপনার ব্রডব্যান্ড কানেকশন, জিপি, বাংলালিংক, বাংলালয়ন ইত্যাদি

এখানে মনে রাখা প্রয়োজন, যে সিস্টেম আমাদের কম্পিউটার টু কম্পিউটার ডাটা এক্সচেঞ্জ করে থাকে তাকে বলা হয় ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ পয়েন্ট (আইএক্সপি) বিভিন্ন কোম্পানি এবং অলাভজনক কিছু প্রতিষ্ঠান এটা নিয়ন্ত্রন করে থাকে। এখন কথা হলো প্রত্যেকটা আলাদা আলাদা আইএসপির আলাদা ইন্টারনেট থাকে। এখন আপনি একক ভাবে যদি কোন কম্পিউটার দিয়ে সেই ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হন তাহলে সেই ইন্টারনেটের মালিক আপনিও

মানে হলো, আপনি নিজেও ইন্টারনেটের একটা অংশের মালিক। কারন সমগ্র ইন্টারনেটের কোন মালিকানা হয় না। যদিও অনেক প্রতিষ্ঠান বা দেশের সরকার নিজেদের ইন্টারনেট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে যাকে বলা হয় লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (ল্যান) যাহোক, মোদ্দা কথা হলো আপনি, আমি, আমরা সকলেই একেক জন একেকটা ইন্টারনেট খণ্ডের মালিক

নিজেকে তো মালিক বলে দাবী করে ফেলেছেন, এখন কি মনে প্রশ্ন আসছে না যে এই জিনিসের দায়িত্ব আপনি কতোটা নিয়েছেন? আপনি যদি এর দায়িত্ব না নিয়ে থাকেন তাহলে এই সব কিছুর জন্য কে দায়িত্ব নিবে?

সবকিছুর জন্য তাহলে দায়ী কে?

images
আমি আগেই বলেছিলাম যে ইন্টারনেট ব্যবস্থাটা চলে কিছু নিয়মের উপর যাকে আমরা প্রটোকলস বলি। সেই প্রটোকলগুলো মেনেই একটি কম্পিউটার ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের সাহায্যে অন্য কম্পিউটার তথ্য প্রদান করে। প্রটোকল না মেনে কোন কম্পিউটার তথ্য প্রদান করতে পারেনা

ইন্টারনেটের উন্নতির পাশাপাশি এই প্রটোকল গুলোরও উন্নতি প্রয়োজন। তার মানে দাড়ালো, কাউকে না কাউকে এই নিয়মগুলো মানে প্রটোকল পরিবর্তন করতে হবে। সমগ্র ইন্টারনেট কাঠামো এবং প্রটোকল ঠিক করে দেওয়ার জন্য রয়েছে অনেকগুলো সংগঠন যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে তারা কারা?