কুরবানি দেয়ার আগে করণীয় কিছু কাজ

কুরবানীর পশু সম্পূর্ণ হালাল আয়ের অর্থে ক্রয় করতে হবে। হারাম আয়ের মাধ্যমে ক্রয়কৃত পশুর কুরবানী কবুল করা হবে না।

সুন্নত অনুযায়ী সকলেরই নিজের কুরবানীর পশু নিজেরই জবাই করা উচিৎ। সেটি না করা গেলে তার পক্ষে অন্য একজন জবাই করতে পারবেন, তবে ওই ব্যক্তিকে অবশ্যই মুসলিম হতে হবে। পশু কুরবানীর সময় সেখানে উপস্থিত থাকা উত্তম

কুরবানীর পশুর মাথা ক্বিবলার দিকে ফিরিয়ে রাখা এবং এসময় সূরা আল আনআমের ৭৯ নং আয়াত (:৭৯) তিলাওয়াত করা সুন্নত

তবে কুরবানীর সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল বিসমিল্লাহ, আল্লাহু আকবার বলা। এটি না বললে ওই পশুর গোশত খাওয়া হারাম হবে। তবে কুরবানী হয়ে যাবে। যদি কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে তা বলতে ভুলে যায় সেক্ষেত্রে কুরবানী গোশত উভয়ই হালাল হবে

জিলহজ্জ মাসের থেকে ১০ তারিখের মধ্যে চুল এবং নখ অকর্তিত রেখে তা কুরবানীর পর কর্তন করা মুস্তাহাব

জবাইকৃত পশুর মাংস সকল অংশীদারদের মধ্যে অংশ অনুযায়ী সঠিকভাবে ভাগ করে দিতে হবে। কুরবানীদাতা চাইলে সমস্ত মাংস নিজে রাখতে পারে। তবে এক তৃতীয়াংশ দরিদ্রদের মাঝে এবং এক তৃতীয়াংশ আত্মীয়দের মধ্যে বন্টন করা উত্তম

পশুর শরীরের অংশ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যাবে কিন্তু কোন অংশই বিক্রয় করা যাবে না। কসাইয়ের পাওনা কুরবানীর মাংসের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে না কেউ পশুর কোন অংশ বিক্রয় করে থাকলে প্রাপ্ত টাকা অবশ্যই যাকাত নিতে উপযুক্ত কাউকে দান করতে হবে

কুরবানীর পশুর চামড়া দিয়ে ব্যবহার্য সামগ্রী তৈরি করা যাবে। কিন্তু তা বিক্রয় করলে প্রাপ্ত অর্থ বঞ্চিতদের দান করতে হবে

কুরবানির সময়

hqdefault

ক: কুরবানী করার পূর্বে পশুকে প্রচুর পানি পান করানো উচিৎ। এতে পশুর চামড়া ছাড়ানো সহজ হয়

খ: পশুর মাথা দেহ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা অযৌক্তিক। জুগুলার ধমনীটি কাটাই যথেষ্ট

গ: জবাই করার সময় হাতে ঘড়ি না পড়া সুবিধাজনক

ঘ: ধারাল ছুরি ব্যবহার করুন। এতে কুরবানী করা সহজ হবে এবং পশুর কষ্টও কম হবে

ঙ: মাংস কাটার সময় পিচ্ছিল মাংস অনেক সময় ধরতে কষ্ট হয়। এজন্য হাতে সামান্য গুঁড়া হলুদ মাখিয়ে নিন, পিচ্ছিলভাব কমে আসবে

চ: কুরবানীর পশুর মূল্য নিয়ে অহেতুক প্রতিযোগিতায় যাবেন না। কারণ যদি আপনার উদ্দেশ্য আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা না হয় তবে আপনার কুরবানী কবুল হবে না। প্রদর্শন করাই যদি পশু কুরবানীর কারণ হয় তবে সে পশু জবাই করার কোন ফায়দাই থাকবে না

ছ: ত্রুটিপূর্ণ নিয়ত ইবাদত কবুল না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। যদি কুরবানীর পশুর শরীকদের মধ্যে কারো নিয়ত ত্রুটিপূর্ণ বা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা ছাড়া অন্য কিছু হয় তবে কারো কুরবানীই কবুল না হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে সতর্ক থাকা খুবই জরুরি

জ: কুরবানীর পশুর রক্ত মাটিতে গর্ত করে তাতে পুঁতে ফেলুন। পরিবেশ দূষণ ছাড়াও এতে অপরের অসুবিধা হতে পারে

ঝ: কুরবানীর পশুর প্রতিটি লোমের জন্য আল্লাহ তাআলা আমাদের সওয়াব প্রদান করেন। তাই কুরবানীর ব্যাপারে সর্বোচ্চ সৎ এবং আন্তরিক থাকা আমাদের কর্তব্য

আল্লাহু আমাদের সবাইবক সঠিক ভাবে কুরবানি দেয়ার তৈফিক দান করুন (আমিন)